রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ ড. মোহাম্মদ আমীনের একটি অসাধারণ গ্রন্থ / এনামুল কাদের খান

আহমদ হোসেন বীরপ্রতীকের জবানিতে ঠাকুগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধবইটি পেয়েছি হলো। পড়ার সুযোগ করতে পারছিলাম না বলে লিখতে পারিনি। এরই মধ্যে পড়ে ফেলেছি। এমন একটি বৃহৎ বই পাঠানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে খুব বেশি লেখাপড়া আমার নেই। গল্প, উপন্যাস, চলচ্চিত্র, রিপোর্ট, প্রামাণ্যচিত্র ইত্যাদি- যা কিছু পড়েছি বা দেখেছি তা যেন সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতে পারছিল না। আমার স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের যে চিহ্ন, যে আবহ, যে গন্ধ, যে রোদ, যে উত্তাপ তা সম্পূর্ণরূপে কোনো লেখায়, বইয়ে, চলচ্চিত্রে পাচ্ছিলাম না। নয় মাসে এত বড় যুদ্ধ কীভাবে শেষ হয়ে গেল, কারা যুদ্ধ করেছিল, যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের মূল ভিত্তিটা কোথায় ছিল- এসব বিষয় এতদিন অস্পষ্টই ছিল।ঠাকুর গাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধবইটি পড়ার পর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্বচ্ছ একটি ধারণা গড়ে নিতে পারি। এই বই থেকেই হতে পারে মহৎ একটি চলচ্চিত্র কিংবা আরও অনেক সাহিত্যকর্ম, শিল্পকর্ম। তানভীর মোকাম্মেল পেলে বই নিয়ে চলচ্চিত্র বানাবেন কিনা আমার জানা নেই। তবে সময় পেলে এবং ঠাকুরগাঁও যাবার সুযোগ হলেচিত্রনাট্যলেখার ইচ্ছা আছে।ভূমিকা পড়ে জানা যায়, আহমদ হোসেন বীরপ্রতীকের যুদ্ধকালীন ডায়েরির ছায়াবলম্বনে বইটি লেখা হয়েছে।তাই এটি একটি বাস্তবতার নিরিখে লেখা প্রামাণ্য গ্রন্থ
অনেকদিন

বইটিতে ভালো  লাগার অনেক লাইন আছে। কোথাও চোখে জল এসেছে, কোথাও শিউরে উঠতে হয়েছে অজানা শঙ্কায়।যে সকল বাক্য সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তার কিছু উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না - “ যেখানে জীবন নেই সেখানে আবার ভয় কী! জীবনহীন জীবনের মতো অকুতোভয় বাঙালি জোয়ানেরা দিনাজুপর সেক্টর লণ্ড ভণ্ড করে দেয়।চারিদিকে নিকষ অন্ধকার- - - কোথাও আলো নেই। যেন ভৌতিক সিনেমার সুটিং হচ্ছে। ---- পরিস্থিতিতে এক মিনিট সময় নষ্ট করা এক বছরের চেয়েও ভয়ঙ্কর।--- চারিদিকে ঘোর অন্ধকার, নিজের শরীরের অস্তিত্বও অনুভব করা যাচ্ছে না।”-- এমন মুগ্ধর অসংখ্য লাইন চতুর্থ অধ্যায় এককথায় অনবদ্য, অভাবনীয়, অবিশ্বাস্য বর্ণনায় ঠাসা। পুরো অধ্যয় যেন, একটি স্বপ্নের অবিনাশী ঘোর। আমাকে অভিভূত করে রাখে শেষ না হওয়া পর্যন্ত।  এমন মগ্ন খুব কমই বইতে হতে পেরেছি। অধ্যায়ে পাকিস্তানি মেজর তার পরিবারের অনেককে হত্যা করা হয়েছে।  মেজরের নয় মাসের একটি বাচ্চাকে মেঝেতে ছুড়ে মারা হয়েছে। যুদ্ধের এমন ভয়ঙ্কর অথচ মানবিক বর্ণনা আর কোনো লেখায় পাইনি। অসাধারণ অধ্যায় বইটাকে ক্ল্যাসিক্যাল মর্যাদা দান করেছে বলে আমার মনে হয়েছে। এতবড় অধ্যায় তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও  এখানে লেখলাম না। তুমি লেখক, তবু আবার পড়ে নিও। নিজেই শিউরে উঠবে যুদ্ধের পাশবতায়।বইয়ের প্রতিটি লাইনই যেন অনিবার্য, প্রতিটি শব্দই অবিচ্ছেদ্য। কবিতার মতো একটি লাইনও কোথাও হতে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। বাদ দিলে ছন্দ থাকবে না যেন।   
জীবনের

আরও কিছু লাইন আমাকে মুগ্ধ করেছে। যেমন “- - - তাঁর বাংলোর সবকটি দরজা জানালায় ফোর্স আনাগোনা করছে। --- আমরা দেশের জন্য লড়ব, কিচ্ছু লাগবে না স্যার, হাতপা- যথেষ্ট। --- আমি তার চলার পথের দিকে তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিই। --- ক্লান্তির পরশে সবাই মুহূর্তে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়, আমার চোখে ঘুম নেই। সবই যেন তাদের ভাবনাগুলো আমাকে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। --- বুকের ভেতর এখনও কুকুরের ডাক, পাশের পাড়ার কুকুরের শব্দ এখন আমার বুকে। --- ” এসব লাইন একেবারে কবিতার মতো। বইয়ের ঘটনা, ঘটনার বর্ণনা আমাকে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা এবং যুদ্ধের যে ভয়াবহতার অভিজ্ঞতা দিয়েছে- তা বইটি না পড়লে কখনও পেতাম কিনা সন্দেহ। আমার মতে, এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লিখিত একটি অসাধারণ গ্রন্থ। যেখানে যুদ্ধ, জয়পরাজয় যুদ্ধের ভয়াবহতার উভয় পিঠকে বাস্তবতার আলোকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে

বইটির প্রচ্ছদ গেট আপ দুটোই চমৎকার। কিছু প্রিন্টিং মিসটেক আছে, তবে খুবই সামান্য।হতেশব্দটি বেশি ব্যবহার করা হয়েছে, আমার হিসাবমতে সত্তর বারের বেশি। এটি বইয়ের পঠনে কিছুটা ছন্দপতন এনেছে। এছাড়া আর সব ঠিক, একদম যেখানে যা প্রয়োজন।হতেথেকেশব্দুটির ব্যবহার পরবর্তী সংস্করণে পুনঃবিবেচনা করা যায়। মুক্তিযুদ্ধের উপর এমন একটি বাস্তব অভিজ্ঞতায় যোজিত ব্যতিক্রমধর্মী অসাধারণ একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ  আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য জানাই অভিনন্দন, ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা



লেখক : এনামুল কাদের খান বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সরকারের যুগ্ম-সচিব।


ভেদরগঞ্জ উপজেলা ও ইনিয়নসমূহের নামকরণ বিচিত্রা / ড. মোহাম্মদ আমীন


আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় ভেদরগঞ্জ শরীয়তপুর জেলার বৃহত্তম উপজেলা। ১৩ টি ইউনিয়ন, ১ টি পৌরসভা ও ২টি প্রশাসনিক থানা সমন্বয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক অবয়ব রচিত। শরীয়তপুর জেলা সদর হতে ১২ কিলোমিটার পুর্বে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদর অবস্থিত। ভৌগলিক বিবেচনায় ২৩.৩৮ ডিগ্রি হতে ২৩.২৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ১০.২৩ ডিগ্রি হতে ১০.৩৬ ডিগ্রি পুর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যšত ভেদরগঞ্জ জেলা বি¯তৃত। ২৬৭.২৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তরে নড়িয়া উপজেলা, মুন্সিগঞ্জ জেলা ও পদ্মা নদী, দক্ষিণে ডামুড্যা ও গোসাইর হাট উপজেলা, পুর্বে চাঁদপুর জেলা ও মেঘনা নদী এবং পশ্চিমে শরীয়তপুর সদর ও নড়িয়া উপজেলা অবস্থিত। ২০০১ খ্রিস্টাব্দের আদম শুমারি অনুযায়ী ভেদরগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,৩৭,৭৮০, তৎমধ্যে পুরুষ ও মহিলা যথাক্রমে ১২০৯৬০ ও ১১৬৮২০। ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৩৬৮ টি গ্রামে মোট খানার সংখ্যা ৪৬৮২০। শিক্ষিতের হার ৪০.৪৭ ভাগ। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ সেপ্টেম্বর ভেদরগঞ্জ উপজেলায় উন্নীত হয়। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ মানোন্নীত উপজেলা উদ্বোধন করেন। মোহাম্মদ খালিদ আনোয়ার ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যšত ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ২১ বছরে ভারপ্রাপ্তসহ মোট ১৮ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। উত্তর তারাবুনিয়ার আনোয়ার হোসেন মাঝি ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রথম ও একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ্ধাতি বাতিল হওয়ার পুর্ব পর্যšত তিনি ভেদরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ভেদরগঞ্জ থানায় এবং ৯টি সখিপুর থানায় অবস্থিত। রামভদ্রপুর, মহিষার, ছয়গাঁও, নারায়নপুর ভেদরগঞ্জ থানায় এবং ডিএমখালী, চরকুমারিয়া, সখিপুর, চরসেনসাস, আরশিনগর, চরভাগা, কাঁচিকাটা, উত্তর তারাবুনিয়া, দক্ষিণ তারাবুনিয়া সখিপুর থানায় অবস্থিত।
প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বিক্রমপুর পরগনার জমিদার সৈয়দ ভেদার উদ্দিন শাহের প্রয়াসে ভেদরগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ভেদরগঞ্জ এলাকা ছিল ভেদার উদ্দিনের জমিদারির অংশবিশেষ। তখন এর কিয়দংশ নারায়নপুর, কিয়দংশ কার্তিকপুর নামে পরিচিত ছিল। ভেদার উদ্দিন ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে এখানে সফরে আসেন। এলাকার প্রজাসাধারণ আইন-শৃঙখলা ও জন নিরাপত্তার স্বার্থে একটি থানা স্থাপনের দাবি জানান। এলাকাটি তখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সুতিকাগার হিসেবে খ্যাত ছিল। ছয়গাঁওসহ ভেদরগঞ্জের প্রায় প্রতিটি গ্রামে প্রবল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রচন্ড ঢেউ। ব্রিটিশ সরকার বিপ্লবীদের দমনের জন্য এখানে একটি থানা স্থাপনের জন্য উদগ্রীব ছিল। অনুকূল পরিবেশ না থাকায় তা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। ভেদার উদ্দিন শাহ প্রজাদের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সরকারের নিকট এখানে একটি থানা স্থাপনের আবেদন পেশ করেন। ভেদার উদ্দিনের মত একজন বিত্তবান জমিদারের আবেদন ব্রিটিশ সরকারের উৎসাহে অনুকূল প্রবাহ সৃষ্টি করে। একটি অত্যাবশ্যক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করার সুযোগ পায় সরকার। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে বৃটিশ সরকার এলাকাটিকে থানা ঘোষণা করে। জমিদার সৈয়দ ভেদার উদ্দিন শাহের নামানুসারে থানাটি ভেদরগঞ্জ নামে পরিচিত লাভ করে। ভেদরগঞ্জের নামকরণের পেছনে আরও একাধিক প্রবাদ প্রচলিত আছে। এর একটি ‘কাদা প্রাবদ’ নামে পরিচিত। ভেদার শব্দের অর্থ কাদা। এক সময় এ এলাকায় প্রচুর কাদা ছিল, কাদার জন্য মানুষের হাটা-চলা ছিল দুষ্কর। লোকজনকে বহুকষ্টে কাদা (ভেদার) মাড়িয়ে গঞ্জে আসতে হত। তাই এলাকাটি ভেদরগঞ্জ নামে পরিচিতি লাভ করে। অনেকের মতে এখানে প্রচুর বেদে ছিল। নদীর পাড়ে সবসময় অসংখ্য বেদে বহর থাকত। তাই এলাকাটির নাম ভেদরগঞ্জ হয়েছে। আধুনিক গবেষণায় প্রবাদ দুটি নিছক প্রবাদ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। মুলত ভেদার শাহের নাম হতে ভেদরগঞ্জ নামের উৎপত্তি। 
ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ও গ্রামসমুহের নামের বৈশিষ্ট্য যেমন আকর্ষণীয় তেমনি ব্যতিক্রমী। প্রত্যেকটি নামকরণ স্বকীয় ঐতিহ্যে মন্ডিত ঐতিহাসিক প্রবারণার একটি গুরুত্বপুর্ণ ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিটি নামের পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের রেনু রেনু স্বর্ণ আর ঋদ্ধ মানুষের কর্মময় জীবনের গুচছ গুচছ চিত্র। প্রতিটি নাম যেন এক একটি জীবন্ত ইতিহাস। এ উপজেলার অধিকাংশ স্থানের নামের পরে উপসর্গের ন্যায় কিছু সাধারণ স্বর যুক্ত। কাটি, কান্দি, পুর, চর, কুড়ি, নগর, গাঁও, হাটি, পট্টি, সার, খালি, কুয়া, ভোগ, খোলা, কর ইত্যাদি স্বরগুচছ উপসর্গের মত অধিকাংশ স্থানের নামের আগে-পাছে জুড়ে। কোন কোন গ্রামে আবার মুল নামের পুর্বেও এ ধরণের স্বরগুচছ বসানো হয়েছে। আবার কিছু কিছু নাম রয়েছে স¤পুর্ণ ব্যতিক্রম। উদাহরণ স্বরূপ পুর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের ‘ভয়রাগ জারিয়া’ গ্রামের কথা উল্লেখ করা যায়। জনৈক ব্যক্তির নেতৃত্বে কিছু যুবক ভয়-রাগ জারিয়া (জেরে) বহিরাগত সন্ত্রাসীদের কবল হতে এলাকাটি পুনরায় দখল করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল বলে এলাকাটির নাম হয় ‘ভয়রাগ জারিয়া’। শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা, গোসাইরহাট, ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর সদর, জাজিরা ও নড়িয়াসহ মাদারীপুর জেলার কিয়দংশ মিলে একটি প্রশাসনিক এলাকা ছিল। তখন এ অংশটি নারায়নপুর নামে পরিচিত ছিল। এখনও শরীয়তপুর জেলার প্রায় প্রত্যেকটি উপজেলায় কোন না কোনভাবে নারায়নপুর নামের গ্রাম রয়েছে। পুর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চর নারায়নপুর, রুদ্রকর ইউনিয়নের চর লক্ষিনারায়ন, জপসার লক্ষিপুর, ভেদরগঞ্জের নারায়নপুর ইত্যাদি এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।
চিতলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। হিন্দুপাড়ার বিপরীতে মুসলমানেরা গ্রামের নাম রেখেছে কাশিপুর মুসলিম পাড়া। মাহমুদপুর ইউনিয়নের নাম ছিল হরিপুর। পঞ্চদশ শতকের শেষদিকে মোগল শাসনামলের স্বর্ণযুগে কিছু মুসলমান মাহমুদপুর নাম দিয়ে একটি নতুন গ্রামের গোড়া পত্তন করে। মুসলমানদের কর্মকান্ডের বিপরীতে সেখানকার নায়েব রামা আনন্দ সহকারে তার ছেলে বিনোদের নামে বিনোদপুর গড়ে তোলে। গ্রামের কিছু অংশ দেবতার নামে হাওলা করে দেয়া হয়। রাম আনন্দ করে হাওলা করেছে বলে প্রজাগণ এলাকাটির নাম রাখেন রামানন্দ হাওলা। দারুল আমান নায়েব রাম রায়ের অধিনে ছিল। তিনি ওখানে একটি গ্রাম করেছিলেন। গ্রামটির নাম রামরায়ের কান্দি। নড়িয়া পৌরসভার মুলপাড়া, নিকড়ি পাড়া, গোয়ালপাড়া ও পাইকপাড়ার বিপরীতে মুসলমানেরা গড়ে তোলে মুসলিম পাড়া, মল্লিকপাড়া, ভুইয়া পাড়া, খলিফা পাড়া ইত্যাদি গ্রাম। 
বাকি অংশ

সূত্র : ভেদরগঞ্জের ইতিহাস,  প্রথম অধ্যায়, নামকরণ বিচিত্রা, লেখক : ড. মোহাম্মদ আমীন।

[ প্রকাশক বা লেখকের অনুমতি ব্যতীত এর কোনো অংশ বা অংশবিশেষ অন্য কোথাও সূত্রবিহীনভাবে ব্যবহার চৌর্যবৃত্তি বলে গণ্য করা হবে।]

গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন, মাতৃভাষা জ্ঞান, প্রাত্যহিক প্রয়োজন, শুদ্ধ বানান চর্চা এবং বিসিএস-সহ যে-কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক :
শুবাচ লিংক
শুবাচ লিংক/২
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩
নাটোর জেলার নামকরণ
চকরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
মানিকগঞ্জ জেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য
হাতিয়া উপজেলার নামকরণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য
পটুয়াখালী আগুনমুখা নদীর নামকরণ

হাতিয়ার নামকরণ / এস এম আবীর চৌধুরী


আমার এ প্রবন্ধটি ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা তিলোত্তমা হাতিয়া : ইতিহাস ও ঐতিহ্য গ্রন্থের ‘হাতিয়ার নামকরণ’ শিরোনামের তৃতীয় অধ্যায় হতে প্রায় অবিকল তুলে ধরা হয়েছে। ড. মোহাম্মদ আমীন হাতিয়ার প্রথম ইতিহাসের লেখক। তারপূর্বে কেউ হাতিয়ার ইতিহাস লিখেননি। এবার দেখা যাক, তিনি হাতিয়ার নামকরণ সম্পর্কে কী লিখেছেন। 

হাতিয়ার নামকরণ সম্পর্কে একাধিক প্রবাদ প্রচলিত আছে প্রবাদগুলো যেমন মজার তেমন আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক তথ্য বাস্তবতা সমৃদ্ধ প্রবাদ-উপখ্যানগুলো সংশ্লিষ্ট প্রবক্তরা গ্রহণযোগ্য করার প্রয়াসে যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যাও সংযুক্ত করেছেন কেউ কেউ প্রবাদগুলোকে নিছক গাল-গল্প মনে করলেও অধিকাংশ লোকই বাদগুলো সত্য বলে মনে
করেনহাতিয়ার নামকরণ প্রবাদের দুটি প্রধান ধারা লক্ষণীয়- তৎমধ্যে একটিহাটিয়াএবং অন্যটিহাতিপ্রবাদ নামে খ্যাত এছাড়া আরও একাধিক  প্রবাদ শোনা যায় নামকরণ প্রবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন প্রবাদহাটিয়াপ্রবাদ হলেও অধিকাংশ লোকহাতিপ্রবাদ এর সমর্থক কতিপয় প্রবাদ দৃষ্টে পঞ্চদশ এবং ষোড়শ শতকে হাতিয়া নামকরণ হয়েছে বলে দেখা যায় কিন্তু আধুনিক গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, হাতিয়ার নামকরণ অবশ্যই ১৫০ খ্রিস্টাব্দ বা তার পূর্বের। ১৫০ খ্রিস্টাব্দে টলেমির বিবরণে হাতিয়ার উল্লেখ আছে (কাজী মোজাম্মেল হক বিরচিত তিন হাজার বছরের নোয়াখালী গ্রন্থের ৫ম পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি) তাই হাতিয়ার নামকরণ বিষয়ে ১৫০ খ্রিস্টব্দের পরের প্রবাদগুলো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

প্রবাদমতে হাতিয়ার প্রাচীন নাম ছিল সাগরদ্বীপ, যার অপভ্রংশ সাগরদীহি> সাগরদী ইতিহাসও অনুরূপ সাক্ষ্য দেয় খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ২০০০-১৫০০ অব্দ পর্যন্ত দ্বীপটির কোনো নাম ছিল বলে মনে হয় না কিরাতরা নামহীন দ্বীপটিতে এসে বসবাস শুরু করার পর আদিবাসী কিরাতরাই সর্বপ্রথম সাগর হতে সৃষ্ট সুন্দর দ্বীপটির নাম সাগরদ্বীপ রেখেছিল। সাগরদ্বীপ হতে সাগরদীহি পরবর্তীকালে সাগরদী নাম এলাকার উৎপত্তি হয় মহাভারত যুগের পূর্বে পর্যন্ত বর্তমান হাতিয়ার সাগরদ্বীপ নাম অক্ষুণ্ন ছিল মহাভারত যুগের প্রারম্ভকালে সাগরদ্বীপ নাম পরিবর্তিত হয়েরামচরণনাম ধারণ করে কথিত হয়, রামের প্রপিতামহ রঘু এ অঞ্চলে অনার্যদের (মহাভারতের রাক্ষসঃ আর্যরা অনার্যদের রাক্ষস, হনুমান ইত্যাদি বলত) বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় হাতিয়া অবস্থান করেছিলেন রাবন সীতাকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম (বর্তমানে সীতাকুণ্ড) নিয়ে যাওয়ার পথে নিরাপদ ভেবে কিছুদিন সাগরদ্বীপ নামক নির্জন দ্বীপটিতে আত্মগোপন করেছিলেন রাম সীতার সন্ধানে বের হয়ে সংবাদ পান যে, সীতা সাগরদ্বীপে (হাতিয়া) আছেন তিনি দ্রুত সাগরদ্বীপ আগমন করেন রাম সাগরদ্বীপে এসে মাটিতে চরণ রাখার সাথে সাথে রাবন সীতাকে নিয়ে সাগরদ্বীপ (হাতিয়া) ত্যাগ করেন রাম যেখানে চরণ রেখেছিলেন সে এলাকা পরবর্তীকালেরামচরণনামে খ্যাতি পায় মহাভারত যুগ হতে শুরু করে পরবর্তী একদশক পর্যন্ত সাগরদ্বীপে রামচরণ এলাকা সাগরদী নামকে অনেকটা ঢেকে রেখেছিল প্রবাদটির পক্ষে মহাভারতের আলোকে ওয়েবষ্ঠারের " The Mahabharata records a hurricane cempaign of Bhim, who exacted tribute and took precious gems of various kinds who ruled over the sea costsএবং প্লিনির প্রেরিপ্লাস গ্রন্থের উদ্ধৃতিtour of conquest of India by Roughu, the great grandfather of Ram, strating from Auyodna he went eastward to ocean having conquered Bangalis”প্রনিধাণযোগ্য

সূত্র : তিলোত্তমা হাতিয়া : ইতিহাস ঐতিহ্য, . মোহামম্মদ আমীন। উল্লেখ্য . মোহাম্মদ আমী ছিলেন হাতিয়া উপজেলার উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট। উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন তিনি গ্রন্থটি রচনা করেন 
শুবাচ লিংক
শুবাচ লিংক/২
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩
মানিকগঞ্জ জেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য