মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

আমনদামন নদীর নামকরণ / ড. মোহাম্মদ আমীন


আমনদামন 
আমন দমন হতে আমনদামন নামের উদ্ভব। দমন মানে দমন করা, ব্যাহত করা, ক্ষতি করা। জোয়ারভাটার প্রভাব-বিমুক্ত আমনদামন নদী (Amondamon River) ঠাকুরগাও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা ও আশপাশের এলাকার একটি বহুল পরিচিত নদী। নদীটির প্রবাহিত পথের দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার, প্রস্থ ৭০ মিটার এবং গভীরতা . মিটার। নদী অববাহিকার আয়তন ৩৩ বর্গকিলোমিটার ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলারর বেলহারা বিল হতে নদীটি  উৎপত্তি লাভ করে এই উপজেলাতেই নাগর নদে  পতিত হয়েছে। নদীর প্রবাহ পথ তেমন দীর্ঘ নয় কিন্তু প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যাপক। একবার নদীর অসময় প্রবল বন্যায় নদী সংলগ্ন পুরো এলাকার আমন চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রায়শ নদীটি আমন চাষকে দমন করত বা ব্যাহত করত। আমন চাষকে দমন করেছিল বলে নদীটির  নাম হয় আমনদামন। নদীটির পানিপ্রবাহ মৌসুমি প্রকৃতির। মার্চ-এপ্রিল মাসে পানিপ্রবাহ থাকে না। বর্ষার মৌসুমে আগস্ট মাসে বেশি পানিপ্রবাহ থাকে। তখন আমনদামন নদীতে পানিপ্রবাহের মাত্রা হয় ঘনমিটার/সেকেন্ড এবং নদীর পানির গভীরতা হয় . মিটার।

সূত্র : বাংলাদেশের নদনদীর নামকরণ, ড. মোহাম্মদ আমীন। 

আতাই নদীর নাকরণ / ড. মোহাম্মদ আমীন

আতাই নদী
যার নাই ঠাই তাকে বলে আঠাই। মূলত আঠাই শব্দের স্থনীয় বিকৃতরূপ আতাই। আতিই নদী  নড়াইল জেলার বড়দিয়া থেকে খুলনা শহেরর নিকট এসে ভৈরব নদীতে মিলিত হয়েছে। খুলনার তেরখাদা দিঘলিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত  আতাই নদী অত্যন্ত জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ। এক সময় নদীটি ছিল অত্যন্ত গভীর ছিল। খুলনা যশোর অঞ্চলে ছোট নদীর মধ্যে এত গভীর আর কোনো নদী ছিল না।নদীটি এত গভীর ছিল যে, কেউ  কেউ ঠাই পেতো না। লম্বা বাঁশ দিয়েও মাঝিমাল্লা জেলেরা অনেক সময় এর তলার হদিস পেত না।  তাই নাম হয় আঠাই> আতাই। 
সূত্র : বাংলাদেশের নদনদীর নামকরণ, ড. মোহাম্মদ আমীন

আঠারোবাঁকি নদীর নামকরণ / ড. মোহাম্মদ আমীন

আঠারোবাঁকি নদীর নামকরণ

আঠারোবাঁকি নদী বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের খুলনা নড়াইল জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী আঠারো বাঁক শব্দের মিলনে আঠারোবাঁকি নামের উদ্ভব। মধুমতি বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত নদী। নদী  নড়াইল গোপালগঞ্জ জেলাকে বিচ্ছিন্ন করে অবিচ্ছিন্ন করেছে জলের টানে, পলির প্রাণে আর কৃষকের গানে। মধুমতি নদী কালিয়া উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে সিংগাতি গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত। গ্রামের দক্ষিণ দিকে একটি শাখা নদী প্রবাহিত। এর নাম আঠারোবাঁকি নদী। আঠারোটি বাঁকে নদীটি প্রবাহিত হয়। তাই এর নাম আঠারোবাঁকি নদী। আসলে বাঁক প্রকৃতপক্ষে আঠারো নাকি তার বেশি বা কম সেটি বড় কথা নয়। তৎকালে নদীটির পরিচিত আঠারোটি বাঁক ছিল। আলাইপুর নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ স্থান। আলাউদ্দিন হুসেন শাহের বাল্যজীবন আলাইপুরে কেটেছে। গ্রামের কাজীবাড়ি ছিল তার শ্বশুর বাড়ি।
সূত্র : বাংলাদেশের নদনদীর নামকরণ, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলা বাজার, ঢাকা। 

নীলফামারী : আউলিয়াখানা নদীর নামকরণ / ড. মোাহাম্মদ আমীন

আউলিয়াখানা নদী
নীলফামারী অঞ্চলে আউলিয়াখানা একটি বিখ্যাত নদী। এ নদীকে নিয়ে রয়েছে বহু কিংবদন্তী এবং মানুষের সুখ-দুঃখের কাহিনি। বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর নাম ভারতীয় পুরাণ ও হিন্দু দেবদেবীদের নাম হতে গৃহীত।মুসলিম নাম হতে নামায়িত বাংলাদেশের নদীসমূহের মধ্যে ‘আউলিয়াখানা’ অন্যতম। নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলায়  উৎপন্ন হয়ে, নদীটি একই জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ঘাঘট নদীতে মিলিত হয়েছে। কথিত হয়, জলঢাকা উপজেলায় নদীটির প্রবেশমুখে ত্রয়োদশ শতকের প্রারম্ভে  আরব দেশে হতে আগত একজন আউলিয়া একটি খানা বা আস্তানা বা বাড়ি গড়ে তুলেছিলেন। একবার প্রবল বন্যায় সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। লোকজন আউলিয়ার কাছে সাহায্য চাইতে গেলে তিনি নদীকে বলেন : এখানে আমার খানা, তুমি এদিকে এস না। নদীর জল তখন শান্ত হয়ে যায় এবং আউলিয়া সাহেবের খানা বা বাড়ি ও সংলগ্ন গ্রাম বন্যা হতে রক্ষা পায়। এরপর হতে নদীটির নাম হয় আউলিয়াখানা। আবার অনেকের মতে, আউলিয়া সাহেবের খানায় প্রতিদিন বহুলোক খানা বা খাদ্য খেতেন। যার অধিকাংশ এ নদী হতে কিংবা এ নদী পথ দিয়ে আসত। নদীর পাশে আউলিয়ার খানা ছিল তাই নদীটির নাম হয় আউলিয়াখানা।
সূত্র : বাংলাদেশের জেলা উপজেলা ও নদ নদীর নামকরণের ইতিহাস।

পটুয়াখালী : আগুনমুখা নদীর নামকরণ / ড. মোহাম্মদ আমীন

আগুনমুখা নদী

পটুযাখালী অঞ্চলে আগুনমুখা খুব ভয়ঙ্কর নদী নামে পরিচিত। নামটিও ভয়ঙ্কর। তবে এ নদীর নাম যেমন ভয়ঙ্কর তার আচরণ ও চলার পথ তেমন ভয়ঙ্কর নয়। এটি বাংলার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ‘আগুন’ ও ‘মুখা’ শব্দের মিলনে আগুনমুখা নামের উদ্ভব। আগুন শব্দের অর্থ অগ্নি এবং মুখা শব্দের অর্থ মুখমণ্ডল, অবয়ব বা রূপ। সুতরাং ‘আগুনমুখা’ শব্দের আগুনের মতো যার মুখ বা অগ্নির মতো যার রূপ বা অবয়ব। চরকাজল ও রতনদি-তালতলি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে তেঁতুলিয়া নদী গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রবেশ করে। তেঁতুলিয়ার নিম্নাংশ কাজল নদী এবং চরকাজলের পশ্চিম অংশ থেকে তেঁতুলিয়া নদীর একটি শাখা আগুনমুখা নাম ধারণ করে। বাকি অংশ:
গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন, মাতৃভাষা জ্ঞান, প্রাত্যহিক প্রয়োজন, শুদ্ধ বানান চর্চা এবং বিসিএস-সহ যে-কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক :
শুবাচ লিংক
শুবাচ লিংক/২
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২
শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩
নাটোর জেলার নামকরণ
চকরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
মানিকগঞ্জ জেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য
হাতিয়া উপজেলার নামকরণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য

রংপুর : আখিরা নদী / ড. মোহাম্মদ আমীন

আখিরা নদী
রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত নদী আখিরা। প্রাচীনকাল হতে এটি এলাকাবাসীর প্রাত্যহিক জীবনের নানা ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে আছে। নদীটি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার চৌদ্দভূবন বিল হতে সৃষ্ট হয়ে পীরগঞ্জ, পলাশবাড়ি পেড়িয়ে ঘোড়াঘাট পৌছেছে। চলার পথে এটি কারও করেছে কল্যাণ আবার কারও করেছে অকল্যাণ। তবে শুকনো মৌসুমে এ নদীর জলই ছিল এলাকাবাসীর ফসলের উৎস, নিজেদের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। নদীটি ঘোড়াঘাটে এসে করতোয়া বাঙালি নদীতে আখিরা নদী নামে মিলিত হয়েছে। আখি শব্দের অর্থ চোখ। আখির মতো স্বচ্ছ জলের জন্য নদীটির নাম হয় আখিরা নদী। আবার অনেকের মতে আখের মানে চিরন্তন বা শেষ। নদীটি সতত প্রবাহমান  এবং কোনোদিন এর শেষ হবে না- এমন ধারণা থেকে নদীটির নাম হয় ‘আখিরা’। আর একটি প্রবাদ বলে, আসলে পাখিরা হতে নদীটির নাম হয় আখিরা। এ নদীর উভয় তীরে প্রচুর পাখি থাকত। পাখিরা সারা বছর নদীকে কোলাহলমূখর করে রাখত। তাই এর নাম পাখিরা, যার আঞ্চলিক অপভ্রংশ আখিরা।
সূ্ত্র :  নদ নদীর নামকরণ : ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলা বাজার, ঢাকা।

সাতক্ষীরা : অর্পণগাছিয়া নদীর নামকরণ / ড. মোহাম্মদ আমীন

অর্পণগাছিয়া নদী
অর্পণগাছিয়া বাংলাদেশের একটি বহুল পরিচিত নদী। সাতক্ষীরা অঞ্চলের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে একসময় নদীটির ব্যাপক প্রভাব ছিল।  সাতক্ষীরা জেলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত নদীটি সুন্দরবনের মধ্যে প্রবেশের পর দীর্ঘপথ অতিক্রম করে অর্পণগাছিয়া নাম ধারণ করেছে। অর্পণ আর গাছ শব্দের সমন্বয়ে ঘটিত হয়েছে অর্পণগাছিয়া। অর্পণ অর্থ প্রদান বা বিসর্জন এবং গাছিয়া অর্থ গাছপালা, ভূমি প্রভৃতি। কথিত হয়, সুন্দরবন তার প্রচুর গাছপালা ও ভূমি অর্পণ বা বিসর্জন দিয়ে নদীর চলার পথকে সুগম করেছে। এজন্য নদীটির নাম হয়েছে অর্পণগাছিয়া। অর্পণগাছিয়া নদী মালঞ্চ নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
সূত্র : বাংলাদেশের জেলা উপজেলা ও নদ নদীর নামকরণের ইতিহাস।